লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মো. সিরাজুল হক খন্দকারকে (৫৭) আবার জেল গেট থেকে আটক করে নিয়ে গেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দ্বিতীয়বার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর জেল গেটেই তাকে আটক করে সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
গতকাল বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জেল গেট থেকে তাকে আটক করে নিয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর জেল গেট থেকে স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাজড়িত করছিলেন স্ত্রী। বারবার বলছিলেন, ‘আল্লাহ পাক এই অত্যাচার সইবে না। আমার স্বামী তো কোনও অপরাধ করেননি, তাহলে কেন এভাবে বারবার ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
জেল গেটে উপস্থিত সিরাজুল হকের স্বজনরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় সিরাজুল হক জামিনে কারামুক্ত হয়ে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের প্রধান ফটক দিয়ে বের হন। এ সময় ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে এবং একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
স্ত্রীর কান্না ও অভিযোগ
সিরাজুলকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমার স্বামীকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। তার অপরাধটা কী? উনি তো কোনও অন্যায় করেননি। এটা কেমন রাজনীতি? এর আগেও জামিনে মুক্তি পেলেও তাকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।’
সিরাজুল হকের বক্তব্য
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেল গেটের সামনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে সিরাজুল হক বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দেখে আদালত দ্বিতীয়বারের মতো আমাকে জামিন দিয়েছেন। আবার মিথ্যা মামলায় আমাকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে ডিবি। আগেরবারও মিথ্যা মামলায় আটক করে কারাগারে পাঠায়। আদালত জামিন দেয়, জেল থেকে বের হলেই আবার ধরে জেলে পাঠায় ডিবি পুলিশ। এ কেমন বিচার। আমি ন্যায়বিচার চাই।’
পটভূমি ও পূর্বের ঘটনা
লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে মুগদা থানা পুলিশের সহায়তায় সিরাজুল হক খন্দকারকে আটক করে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ। সিরাজুল হক সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। গ্রেফতার হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন। গত ২৫ মে প্রথমবার আদালত তার জামিনের আদেশ দেন।
ওই দিন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই জেল গেট থেকে তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে ২০২৩ সালে লালমনিরহাটে শ্রমিক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলায় আদালতে হাজির করার পর পুনরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ জামিন ও আটক
সর্বশেষ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আবার আদালত থেকে জামিন পান। ওই দিন সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার জেল গেট থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এবার কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানায়নি ডিবি পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রওশন কবীর বলেন, ‘জেল গেট থেকে সিরাজুল হক খন্দকারকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে সদর থানায় সোপর্দ করেছি আমরা। সদর থানা পুলিশ এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ‘মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিদ মণ্ডলের বাড়ি ও খামার ভাঙচুরের পুরোনো মামলায় সিরাজুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ আদালতে সোপর্দ করলে জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।’



