ঝিনাইদহে হামলার পর এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন
ঝিনাইদহে হামলার পর এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঝিনাইদহে হামলার বর্ণনা দেন।

হামলার বিবরণ

গত শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার পর বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরই আমার ওপর ডিম ছুড়ে মারা হয়। ডিম আমার চোখে এসে লাগে, আমি চোখে অন্ধকার দেখছিলাম। পাশ থেকে একজন জানাল যে ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে। এরপর তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। তারপর আমাদের সহযোদ্ধাদের ওপর হকি স্টিক, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা রক্ষীবাহিনীর মতো করে ঝাপিয়ে পড়ে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ওই দিন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশও হামলায় অংশ নেয়। পরে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে দেরি করে এবং বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, ‘তারা একসঙ্গে আমাদের ওপর হামলা করেছে। পরে বিচারের জন্য থানায় গেলে তারা মামলা না নিয়ে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয়। ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। মামলা নেওয়ার কথা বললেও একপর্যায়ে ওসি থানা থেকে সটকে পড়েন। একটা পর্যায়ে তারা মামলা নিতে বাধ্য হয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা করে থানা থেকে বের হওয়ার সময় হাজার তিনেক ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র-লাঠিসোঁটা নিয়ে থানার ফটক ভাঙা শুরু করে জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘পুলিশ তখন পেছনে পালানো শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন (সমঝোতা) করে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের সমালোচনা

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশে কোনো আইনের শাসন নেই, দেশে একটি জংলি শাসন চলছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সংস্কার বাস্তবায়ন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করি এবং চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি। এ জন্য সরকার একটি রক্ষীবাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত আমাদের আঘাত করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট করছি, আমি, আমরা মাঠে যাব। আপনাদের শেষ অপশন আমাদের মেরে ফেলা। যদি মেরে ফেলেন, এটাও আমাদের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু আপনারা যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না করেন, আপনাদের সঙ্গে আমরা আপস করব না। বিচারের প্রশ্নে, আওয়ামী লীগের প্রশ্নে, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস ও দুর্নীতির প্রশ্নে আমরা আপস করব না।’

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর যদি অন্যায়ভাবে হামলা-মামলা হয়, আমরা পাঁচ বছরের জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু পাঁচ বছর দেখবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারছি না। ইতিমধ্যে চায়ের দোকানে কথা চলছে। কেউ বলে এক বছর, কেউ বলে দুই বছর, কেউ বলে আড়াই বছর।...তিন মাসেই সরকার হেলছে, দুলছে।’

নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সীমান্ত ইস্যু

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারের ক্ষমতার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং পেছনে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনো পক্ষ সুযোগ নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাবে। এই অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে আমাদের কোনো চুক্তিতে তারা বাধ্য করবে। আমাদের জনগণের কাউকে হত্যা করে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করবে, যেখানে আবার গণতন্ত্র ব্যাহত হওয়ার একটি ষড়যন্ত্রের আভাস আমরা পাচ্ছি।’

সম্প্রতি ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্ত এলাকা মাদকে সয়লাব। সেখানে রাস্তায় রাস্তায় ফেনসিডিলের বোতল পড়ে থাকে। ভারত থেকে অবাধে বাংলাদেশে মাদক ঢুকছে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন।

বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে প্যাট্রলিং ব্যবস্থা, থাকার ব্যবস্থা, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নাজুক অবস্থা রয়েছে বলে মনে করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিজিবিকে শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া সরকারের উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন (প্রচারণা চালানো) করার দাবি তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।