অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আগামী নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারে। যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত
তৌহিদ হোসেন জানান, তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে জানান, এতে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।
ডিপস্টেট প্রসঙ্গ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ডিপস্টেট সক্রিয় ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিপস্টেট বিশ্বের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই জড়িত থাকে। তবে তারা স্রোতের বিপরীতে যায় না; পরে তারা পরিস্থিতি ম্যানিপুলেট করে।
কিচেন কেবিনেটের অস্তিত্ব
সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তিনি একবার যমুনায় 'কিচেন কেবিনেটের' বৈঠকে যোগ দিতে বাধ্য হন। পরে জানতে পারেন, প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন এবং সিদ্ধান্ত নেন। তার কানেও এ ধরনের কথা এসেছে যে একটি গ্রুপ নিয়মিত বসে সিদ্ধান্ত নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি
ভোটের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সে বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে জড়িত ছিলেন না। চুক্তিতে জড়িত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি মনে করেন, কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে নির্বাচিত সরকারের ওপর চুক্তি সই করার বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চিঠি
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি লেখা হলেও এর কোনো উত্তর আসেনি। এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি উত্তর আশা করেননি। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়নি। মানুষের স্মৃতিশক্তি দীর্ঘ নয় বলে দলটি ফিরে আসবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।



