জাতীয় কবি নজরুলকে জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ বললেন তারেক রহমান
জাতীয় কবি নজরুলকে জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ বললেন তারেক রহমান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি বিশ্ব কবিসভারও গুরুত্বপূর্ণ নায়ক। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। তার প্রাসঙ্গিকতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।"

২৫ মে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী

২৫ মে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রবিবার (২৪ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে তার চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাকে স্মরণ করছি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। কামনা করি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত।"

নজরুলের আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন করকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার তখন দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, "কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা। একটা অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে; তথা সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নজরুল: মানবতা ও স্বাধীনতার কবি

"মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য তার চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি। তিনিই আমাদের প্রথম কবি, সাংবাদিক, রাজনীতিক যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে উপমহাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তার যে দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার তা তুলনাহীন।"

তারেক রহমান বলেন, "মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তিনি আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারী। আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তার রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তার সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য আছে সকল কালের সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়। তার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনও ফুরানোর নয়।"

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নজরুলের প্রভাব

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস। তেমনই আমাদের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তার সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। বাংলা কাব্য-সংগীতে তার আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো বিস্ময়ময় ও অভূতপূর্ব। মাত্র দুই দশকের সাধনা দিয়ে তিনি জাতিকে করে গেছেন আত্মপ্রত্যয়মণ্ডিত। নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির পাটাতন। সত্যিকার অর্থেই তিনি জাতীয় রেনেসাঁর নিশানবরদার। আবার তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।"

তিনি বলেন, "কবি নজরুল আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। তার জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করে। আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে, সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আমাদের প্রত্যয়।"