নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় পলাতক আজমেরী ওসমানের অনুসারী যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের পরদিনই একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠকের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২২ মে) বিকালে চাষাঢ়ার ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্ট’ থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান।
আটকদের পরিচয় ও জিজ্ঞাসাবাদ
আটকদের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করলেও তারা তিনজনই চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। ওসি সাজেদুর বলেন, তাদের মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। প্রাথমিক তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বের ঘটনা
এর আগে জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানের অনুসারী যুবলীগের কর্মী-সমর্থকরা বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের চাষাঢ়ায় মিছিল করে। লাল কাপড়ে মুখ ঢেকে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেন মিছিলকারীরা।
ফেসবুকে তথ্য ও পুলিশি অভিযান
এ মিছিলের পরদিন শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি ও তাদের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা চাষাঢ়ার একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগের ‘গোপন বৈঠক’ চলছে বলে স্ট্যাটাস দেন। এরপর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ‘গ্র্যান্ড হল রেস্টুরেন্ট’ নামে ওই রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে কয়েকজনকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানার দিকে নিয়ে যেতে দেখেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ছাত্রশিবির নেতার বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, চাষাঢ়ায় মূলত চাঁদপুরের একটি সংগঠনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরাও ছিল। চাঁদপুরের এক ভাইয়ের কিছু গ্রুপ ছিল, সেখান থেকেই আমাদের গতকাল (বৃহস্পতিবার) জানানো হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানাই। অন্তত ৪০-৫০ জন নেতাকর্মীর একটি দল রেস্তোরাঁয় বসবে বলে তথ্য ছিল জানিয়ে ওই ছাত্রনেতা বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আগের দিনের মিছিলেও ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। যদিও পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।
পুলিশের ব্যাখ্যা
ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, গোপন বৈঠকের মতো কিছু হয়নি। তবে আমরা সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে নিয়ে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যদি আটক ব্যক্তিরা নির্দোষ হয়, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



