প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সেজে তদবির-নিয়োগ বাণিজ্য, গ্রেফতার ১
প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সেজে তদবির-নিয়োগ বাণিজ্য, গ্রেফতার

মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস-১) পরিচয়ে সরকারি দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে তদবির, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৬) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (২২ মে) বিকালে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার ব্যক্তির পরিচয়

গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উয়াইল গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুয়া পরিচয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর সাভারের রাঢ়ীবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ জানায়, গত ১৮ মে মামুন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন দিয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ হিসেবে পরিচয় দেন। উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন তদবির ও প্রভাব খাটানোর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবগত করা হয়। পরে প্রকৃত এপিএস-১ ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরির আবেদন করলে তদন্তে নামে পুলিশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধারকৃত আলামত

অভিযানের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র, প্রেস লেখা জিপগাড়ি, আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সম্বলিত লিফলেট এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে।

আগের মামলা ও সাজা

পুলিশ সুপার জানান, মামুনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চেক জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি জানতে পেরেছে, মামুন বিভিন্ন সময়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে বদলি, তদবির ও নিয়োগ বাণিজ্যের চেষ্টা চালাতেন। শুধু তাই নয়, জুলাই অভ্যুত্থানপরবর্তী বিভিন্ন মামলার আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য, ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তার ও প্রতারণাকে পেশা বানিয়ে ফেলেছিলেন মামুন। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।