রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে: জামায়াত আমির
রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করুন: জামায়াত

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কারো রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। শনিবার (১৬ মে) বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

পদ্মা ও তিস্তার পানির দাবি

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পদ্মা ও তিস্তার কারণে বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রথম সরকার ক্ষমতায় এসে ফারাক্কা বাঁধ পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ দিন চালানোর সুযোগ দিলেও ৫৫ বছরেও সেই ১৫ দিন শেষ হয়নি। এখন পদ্মা শুকনো মৌসুমে মরুভূমি আর বর্ষায় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি ক্ষমতাসীন সরকারকে পদ্মা ব্যারেজ ঘোষণার জন্য সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই ঘোষণা যেন লোক দেখানো না হয়, বাস্তবে রূপ নেয়। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নদী পুনরুদ্ধারের ওপর জোর

জামায়াত আমির বলেন, পদ্মা ও তিস্তার পানি বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা। দেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদী এখন মৃতপ্রায়। খাল কেটে পানি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নদী ঠিকমতো না চললে খালে পানি আসবে কোথা থেকে? তিনি নদী পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি খাল কাটা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির সমালোচনা

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে পথে স্বৈরাচার হেঁটেছিল, একই পথে বিএনপি হাঁটছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে স্বৈরাচারের পরিণতি যা হয়েছিল, বিএনপির পরিণতিও ভিন্ন হবে না যদি তারা এ পথ থেকে ফিরে না আসে।

জুলাই যোদ্ধাদের উপহাসের নিন্দা

তিনি জুলাই যোদ্ধাদের উপহাসের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর তরুণরা যখন সামনে এসেছিল, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। এখন সরকারি দল তাদের শিশু পার্টি বা গুপ্ত বলে উপহাস করছে, যা লজ্জাজনক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করাকে জনগণের অপমান বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ রেহাই পায়নি। তিনি সরকারকে সৎপথে ফিরে আসার অনুরোধ করেন এবং সতর্ক করেন যে অন্যথায় জাতি তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেবে।

সংস্কার প্রস্তাবে গাদ্দারির অভিযোগ

সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার নিজেদের সংস্কার কর্মসূচির প্রথম দফার সঙ্গেই গাদ্দারি করছে। তারা ইশতেহারে বলেছিল কোনো অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকবে না, কিন্তু সরকার গঠনের পর ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা নির্বাচিত নন।

ভারতের প্রতি বার্তা

ভারতের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশীকে সম্মান করলেও বাংলাদেশের দিকে চোখ রাঙানো বা হুমকি দেওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, এটা তিতুমীর, হাজি শরীয়তউল্লাহ ও শাহমখদুমের বাংলাদেশ। কেউ কালো হাত বাড়ালে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত তা রুখে দেবে।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তা

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল। বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।