সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীদের মিছিল থেকে ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানান, বুধবার জানাজা শেষে জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে একদল কর্মী জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে তারা মিছিল বের করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক শরীফ উদ্দিন পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা বিভিন্ন গলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ টুকরো ইট ও আটটি কাঠের লাঠি উদ্ধার করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের তালিকা
আটককৃতরা হলেন: মোহিউদ্দিন (৩৯), সুমন (২৪), ইমন (২৩), মুর্তুজা মেহেদি ওরফে মেহেদি হাসান (২২), বাশার ওরফে হাসান (২৪), সাজিব (২৭), মুসা (৪২), সোহেল (২৮), মনির (৩৭), রায়হান (২৯), ইলিয়াস ওরফে মিলন (২৬), জাহিদুল হক ওরফে সোহাগ (২৪), শাহিন (২৭), শরীফ (২০), ছোটন ওরফে রাকিব মিয়া (২৮), আলমগীর (২৪), সাদ্দাম হোসেন (২৯), রাসেল (২৫) ও জয়নাল (২২)।
মামলা ও জিজ্ঞাসাবাদ
পুলিশ জানায়, কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে হাজির করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের কর্মী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে। তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও অন্যান্য ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যা, চুরি ও নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো একাধিক মামলা রয়েছে। বিশেষ করে মোহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



