জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, গণভোট-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জাতীয় ঐকমত্য অপরিহার্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ব্যতীত রাষ্ট্রীয় রাজনীতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন করে রাজনৈতিক দল ও সমাজ শক্তির মধ্যে সংলাপের আয়োজন করতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত
শুক্রবার (১৫ মে) উত্তরাস্থ বাসভবনে জেএসডির স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের চলমান গণভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে জেএসডি বিস্তারিত রাজনৈতিক পর্যালোচনা শেষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ
প্রথমত, গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়কে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ম্যান্ডেট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এর পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
দ্বিতীয়ত, গণভোট-পরবর্তী সময়কে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক ও রূপান্তরমূলক সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়া গঠনের আহ্বান জানানো হয়, যেখানে সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকবে।
তৃতীয়ত, রাজনীতিকে ব্যক্তি ও দলকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার সংকীর্ণ পরিসর থেকে মুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেট-ভিত্তিক প্রোগ্রাম্যাটিক পলিটিক্স প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাঠামোগত রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হবে। নীতিনির্ভর রাজনীতি, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রকে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে নিয়ে আসাই হবে জেএসডির অঙ্গীকার।
চতুর্থত, বহুত্ববাদী সমাজের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সংঘাত-নিয়ন্ত্রণক্ষম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র এবং ক্ষমতার ভারসাম্যভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের পক্ষে জেএসডি দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। এ কাঠামোতে রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো একক কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে ন্যায়সঙ্গত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টিত থাকবে।
পঞ্চমত, গণভোট-পরবর্তী সময়কে একটি ‘কনস্টিটিউশনাল উইন্ডো অফ ট্রান্সফরমেশন’ হিসেবে বিবেচনা করে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক ভিত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দলীয় উদ্যোগ আরও সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে জোরদার করা হবে। এই সময়কে কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর্যায় হিসেবে নয়, বরং একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে সংবিধান, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং ক্ষমতার কাঠামোতে গণতান্ত্রিক গভীরতা নিশ্চিত করার জন্য নীতি-প্রস্তাব, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক সংলাপ বিস্তৃত করা হবে।
সভার ঐকমত্য
সভা সর্বসম্মতভাবে মত প্রকাশ করে যে, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছাই রাষ্ট্রের চূড়ান্ত বৈধতার ভিত্তি এবং অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই জেএসডির রাজনৈতিক দর্শন ও কার্যক্রমের মূল ভিত্তি।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সভায় সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রশ্নে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম তানিয়া রব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট কে এম জাবির এবং কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ।



