নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও বিরোধের জেরে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২২) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের কয়েকজন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ও অন্যটি আলাল মুন্সির সমর্থক। অনিক রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মিয়ার ছেলে। ওই তরুণ ও তাঁর পরিবার নাজিম উদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। এ ঘটনায় রাজু (২৮) ও মোস্তফা (৬০) নামের আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁরা সহ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগের বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই আলাল মুন্সির সমর্থকেরা এলাকার বাইরে ছিলেন। আজ স্পিডবোটে ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের নিয়ে নিলক্ষায় প্রবেশ করেন এবং নাজিম উদ্দিন পক্ষের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের বিস্তার
দ্রুত এ সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কয়েক দফায় উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। প্রথমে স্থানীয়ভাবে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে নেওয়া হয়। এ সময় পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক অনিককে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও বলেন, ওই তরুণের লাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা আছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওই দুইপক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। পুরোনো ওই বিরোধের জেরে আজ আবার এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পরপর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।



