কুমিল্লার লালমাইয়ে এনায়েত হোসেন বাহার নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন করেছে এক প্রবাসীর স্ত্রী। ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাকে হত্যা করা হয়। শনিবার দুপুরে উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী রাসেলের স্ত্রী ঝুমুর আক্তারের (৩৫) ঘর থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। নিহত বাহার (৩৮) একই গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে। লাশ উদ্ধারের সময় তার মাথায় এবং ঘাড়ে কোপের চিহ্ন ছিল। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, দত্তপুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী রাসেলের স্ত্রী ঝুমুর আক্তারের সঙ্গে নিহত বাহারের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে প্রবাসী রাসেল তার স্ত্রীকে চাপ দেয়। এতে ঝুমুর বাহারের কাছ থেকে দুরত্ব বজায় রাখে। এরই মাঝে দেশে ছুটি কাটিয়ে গত এক সপ্তাহ আগে আবারও সৌদি আরবে চলে যান রাসেল। শনিবার সকালে জোরপূর্বক ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করে বাহার। এসময় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী ঘরে থাকা বটি দা দিয়ে মাথা এবং ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে নারী নিজেই ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে খবর দিলে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং ঘাতক ঝুমুরকে গ্রেফতার করে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঝুমুর আক্তার বলেন, 'আমার স্বামী প্রবাসে থাকে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘরে আমার বৃদ্ধা শাশুড়ি এবং আমি থাকি। সেই সুযোগে নিহত বাহার আমাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। এ ঘটনায় কুমিল্লা র্যাব অফিসেও একবার অভিযোগ করেছিলাম। অভিযোগের পর কিছুদিন উত্ত্যক্ত করা বন্ধ থাকলেও আমার স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পরপরই আবার আমার ঘরে ঢুকে পড়ে সে। ঘরে ঢুকেই আমার শরীরে স্পর্শ করে এবং জোরজবরদস্তি করে ধর্ষণের চেষ্টা করলে একপর্যায়ে আমি বাঁচার জন্য বটি দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করি। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। পরে আমি নিজেই ৯৯৯ এ কল করে পুলিশে খবর দিয়েছি।'
নিহতের পরিবারের দাবি
তবে নিহতের পরিবারের দাবি এনায়েত হোসেন বাহারকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চান।
পুলিশের বক্তব্য
লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, 'প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবক বাহারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার পর ঘাতক নিজেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে ঘাতক নারীকে গ্রেফতার করে। ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।'



