সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের অপরাধের জন্য বাবা-মা বা অভিভাবককে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ধরনের দায় বহন করতে হতে পারে। দেশটির আইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবককে শাস্তি দেওয়ার বিধান না থাকলেও, অবহেলা, প্ররোচনা বা পুনর্বাসন ব্যবস্থা মানতে ব্যর্থতার মতো ঘটনা প্রমাণিত হলে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
কখন ফৌজদারি দায় বর্তাতে পারে?
আইনজীবীদের মতে, অভিভাবকের নিজের অবহেলা, শিশুকে ঝুঁকিতে ফেলা, অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া বা আদালতের নির্দেশিত পুনর্বাসন ব্যবস্থা মানতে ব্যর্থ হওয়ার মতো কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সরাসরি সন্তানের অপরাধের জন্য অভিভাবককে শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই।
দেওয়ানি দায়: ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
দেওয়ানি দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। আমিরাতের সিভিল ট্রানজ্যাকশনস আইনে বলা হয়েছে, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধায়ক বা অভিভাবক সন্তানের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হতে পারেন। তবে অভিভাবক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তারা সন্তানের যথাযথ তদারকি করেছেন অথবা সঠিক নজরদারি থাকলেও একই ঘটনা ঘটত, তাহলে তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন।
সম্প্রতি একটি মামলার নজির
সম্প্রতি আল আইনের একটি দেওয়ানি আদালত এক অপ্রাপ্তবয়স্কের অভিভাবককে ৩ হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগ ছিল, ওই কিশোর স্ন্যাপচ্যাটে আরেক তরুণকে হুমকি দিয়েছিল। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলাটি দেখিয়েছে যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা যেতে পারে।
১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান
ইউএইর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটনের সময় কোনো শিশুর বয়স ১২ বছরের কম হলে তাকে ফৌজদারি দায়ে অভিযুক্ত করা যায় না। তবে প্রয়োজন হলে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে বিচারিক তত্ত্বাবধান, ইলেকট্রনিক নজরদারি, কমিউনিটি সার্ভিস বা কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে।



