নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় জীবিত স্বামী-স্ত্রীর জানাজার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের উখরইল গ্রামের আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৩০ জন নারী-পুরুষ সাধু গত সোমবার বিকালে আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে তাকে এবং তার স্ত্রী মালেকা বেগমকে জীবিত অবস্থায় বরই পাতার গরম পানিতে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরিয়ে বসিয়ে রাখেন। এরপর সাদা কাপড় পরিহিত নারী-পুরুষ সাধুরা জানাজা আদায় করেন। পরে তাদের হাত ও চোখ সাদা কাপড়ে বেঁধে হাতে লাঠি ও মালা ধরিয়ে দিয়ে অর্থ-কড়ি দান করেন এবং গ্রামের কয়েক বাড়ি থেকে ভিক্ষা করিয়ে নেন। পরের দিন গান-বাজনার আয়োজন করলে গ্রামবাসী তাদের বাধা দেন।
তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে আব্দুল হাই বাবুর বাড়িতে গিয়ে তাকে ও ওইসব সাধুদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। আব্দুল হাই বাবুর মেয়ে হালিমা আক্তার জানান, তারা চার ভাই ও এক বোন। তাদের বাবা-মা যেভাবে থাকতে চায় তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, এটি ইসলামের চার তরিকার একটি এবং সংসার ধর্ম ত্যাগ করে ফকিরি লাইনে যাওয়ার কারণে তাদের রীতি-নীতি অনুযায়ী এসব পালন করা হয়েছে। এতে তিনি কোনো খারাপ দিক দেখছেন না।
স্থানীয়দের বক্তব্য
উখরইল গ্রামের বাসিন্দা শামসুল আলম, মজিবর রহমানসহ আরও অনেকে জানান, আব্দুল হাই বাবু ও তার স্ত্রী মালেকা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ফকিরি লাইনে আছেন। হঠাৎ করেই গত সোমবার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৩০ জন নারী-পুরুষ সাধু তার বাড়িতে আসে এবং ওইদিন বিকালে জীবিত স্বামী-স্ত্রীর জানাজা পড়িয়ে সংসার ধর্ম ত্যাগ করান।
ইসলামিক দৃষ্টিকোণ
উখরইল জামে মসজিদের ইমাম মো. আবুল হোসেন বলেন, "এটি সম্পূর্ণ ইসলাম পরীপন্থী। ইসলাম ধর্মে কোথাও জীবিত মানুষের জানাজা করানোর বিধান নেই।" তিনি এই ঘটনাকে ইসলামী শরিয়তের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন।
প্রশাসনের অবস্থান
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই, আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি অবগত হলাম।" তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে অবগত নন বলে জানান।



