সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ না বললে ক্ষিপ্ত হওয়ার প্রবণতা থাকলেও পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা হৃদয় এর ব্যতিক্রম। তিনি ছোট-বড় সবাইকে ‘ভাই’ বলে ডাকেন এবং সবার কাছ থেকে ‘ভাই’ ডাক শুনতে পছন্দ করেন। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল দশমিনায় যোগদানের পর থেকে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘ভাই’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সবার প্রতি সমান ব্যবহার
সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা কিশোর, যুবক, বয়োবৃদ্ধ, রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। অধিকাংশ মানুষ তাকে পদের সম্মানে ‘স্যার’ ডাকলেও তিনি কাউকে ‘ভাই’ বলে ডাকতে ভুল করেন না। তার অফিস কক্ষে সেবা নিতে আসা কোনো সেবাপ্রত্যাশীকে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হয় না; সব সময় অফিসে ভিড় লেগে থাকে।
দ্রুত সেবা ও জবাবদিহিতা
সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, ইউএনও সময়ের কাজ সময়ে করেন এবং কোনো কাজ ফেলে রাখেন না। সমস্যা নিয়ে গেলে দ্রুত সমাধান দেন। অনেক সময় অফিসের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও তিনি অফিসে অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে সেবা দেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্য সহায়তায় তিনি যোগদানের পর ‘ইউএনও মিডিয়া সেল’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন। সেখানে সাংবাদিকরা উপজেলার নানা সমস্যা তুলে ধরলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ব্যবস্থা নেন। এতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরছে বলে মনে করেন সাংবাদিকরা।
সেবাপ্রত্যাশীর প্রতিক্রিয়া
সোহেল নামে এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ‘আমি যখন সেবা নিতে গিয়েছি, তখন ইউএনও আমাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন। কোনো কাজ নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে করে দেন। দলমত নির্বিশেষে সবার প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে ছুটে বেড়ান সব উপজেলা জুড়ে। আশা করি তার ভালো ব্যবহার ও ভালো কাজ অব্যাহত থাকবে।’
ইউএনওর বক্তব্য
জানতে চাইলে ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা হৃদয় বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষকে ভাই ডাকতে পছন্দ করি। আমি চাই, তারা যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্য পায়, সেভাবে আমাকে ডাকুক। কেউ আমাকে ভাই বললে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের কাছাকাছি যেতে চাই, যাতে স্থানীয় সমস্যাগুলো বুঝে তাদের সেবা দিতে পারি। আমি চাই, সব কিছুতে জবাবদিহিতা থাক। আমি ভুল করলেও যেন সাংবাদিকরা লেখে। তাতে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।’



