খাগড়াছড়িতে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে প্রসীতখীসা সমর্থিত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র গ্রুপের দুইজন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তাবাহিনী ওই সশস্ত্র গ্রুপের একজনকে আটক ও একটি একে ৪৭ রাইফেল উদ্ধার করেছে।
মাটিরাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধ
বুধবার (২৪ জুন) জেলার মাটিরাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউপিডিএফের সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। মাটিরাঙ্গার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ববিন ত্রিপুরা (৩২) নামে একজন। এসময় জনি ত্রিপুরা (২৯) নামে ইউপিডিএফের অপর এক সদস্যকে আটক ও একটি একে ৪৭ রাইফেল উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামগড়-মাটিরাঙ্গা সীমান্তের তৈকাতাং নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন। এলাকাটি মাটিরাঙ্গা থানার অধীনে হওয়ায় ওই থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে গেছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামগড় ও মাটিরাঙ্গা সীমান্তবর্তী তৈকাতাং নামক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থানের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টহলদল ওই এলাকায় অভিযানে যায়। এসময় জঙ্গলে অবস্থানকারী সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে। নিরাপত্তাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়।
দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় নিরাপত্তাবাহিনী ওই এলাকায় তল্লাশিকালে ববিন ত্রিপুরা নামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীর মরদেহের সন্ধান পায়। এসময় ওই এলাকা থেকে জনি ত্রিপুরা নামে ইউপিডিএফের এক সদস্যকে আটক এবং তাদের ব্যবহৃত একটি একে ৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মো. শাহেদ উদ্দিন বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মুঠোফোনে জানান, ঘটনাস্থল রামগড় না কি মাটিরাঙ্গা থানায় অধীনে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে থানার পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে। মাটিরাঙ্গা থানার অধীনে হলে তারা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসবে। ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল অত্যন্ত দুর্গম। ওখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আনতেও অনেক সময় লাগবে।
রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এলাকাটি রামগড় ও মাটিরাঙ্গা সীমান্তবর্তী। তবে মাটিরাঙ্গা থানার অধীনে পড়েছে ঘটনাস্থল। সীমানা নিশ্চিত হওয়ার পর রামগড় থানার পুলিশ ফিরে গেছে। মাটিরাঙ্গা থানাকে জানানো হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওয়া দিয়েছে।
দীঘিনালায় আরেক বন্দুকযুদ্ধ
অন্যদিকে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ার মুড়োপাড়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফ’র মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুজন চাকমা নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছে। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবন্যা গ্রামের বাসিন্দা।
‘জেএসএস সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায়’ সুজন চাকমা নিহত হয় বলে দাবি করেছে ইউপিডিএফ। দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে বলে জানান।
ইউপিডিএফের বক্তব্য
ইউপিডিএফের প্রসীত গ্রুপের মুখপাত্র ও জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ববিন ত্রিপুরাকে তাদের সংগঠনের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তবে দীঘিনালার ঘটনায় ‘গোলাগুলির’ কথা অস্বীকার করেন তিনি। তিনি এসব ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেন।



