ময়মনসিংহে কিশোরী বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরকে ডেকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার দায়ে দুই ভাইকে মৃতুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণা
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ওই কিশোরীর বাবা ও চাচাকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতে উপস্থিতি
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খান। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, “রায়ের সময় তিন আসামি আদালতে হাজির থাকলেও এক আসামি পলাতক। রায় ঘোষণার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।”
ঘটনার বিবরণ
আদালত সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসানের (১৫) সঙ্গে এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরীর পরিবার বিষয়টি মানতে পারেনি। ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে সৈকতকে ডেকে ওই কিশোরীর বাড়িতে আনা হয়। সেখানে যাওয়ার আগে বিষয়টি এক বন্ধুকে জানিয়েছিল সৈকত।
মরদেহ উদ্ধার
এরপর সৈকত আর বাড়ি না ফিরলে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই বছরের ২১ মে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় সৈকতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলা ও অভিযোগপত্র
এ ঘটনায় সৈকতের বাবা আকরাম হোসেন বাদী হয়ে ২২ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি কিশোরীর বাবা, চাচা ও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।



