প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান বুধবার সংসদে জানিয়েছেন, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখতে আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক মূল্যায়ন চলছে। ১৩তম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন না, তার লিখিত উত্তর পাঠ করে শোনানো হয়।
তিস্তা নদীর গুরুত্ব
রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবিকার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। শুষ্ক মৌসুমে উজানের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় তিস্তা সেচ প্রকল্প ও কৃষি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বন্যা ও ভাঙন
অন্যদিকে, বর্ষাকালে উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অঞ্চলটিতে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট—এই পাঁচটি তিস্তা অববাহিকার জেলায় ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী তীর রক্ষা কাজ চলছে।
তীর রক্ষা প্রকল্প
প্রকল্পটির আওতায় ৪২.৫ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষা করা হচ্ছে, যা চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে রংপুর-৪ আসনে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৬ কিলোমিটার তীর রক্ষা কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা চলতি মাসে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা
তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে একটি টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত তিস্তা মাস্টার প্ল্যানে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষা ও নদী ব্যবস্থাপনা, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, রাস্তাসহ ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন/স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার জমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে যাতে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নত হয়।



