সুনামগঞ্জে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক মন্ত্রী বাবরসহ ৮ জন খালাস, একজনের ফাঁসি
সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলায় ৮ জন খালাস, একজনের ফাঁসি

সিলেটের একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যা চেষ্টার মামলায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ জিকে গৌসসহ আট আসামিকে খালাস দিয়েছেন। একই মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিবরণ

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামের সৈয়দ নাইম আহমেদ ওরফে নিমু। তাকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবুল হোসেন রায় নিশ্চিত করে বলেন, সাক্ষী ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অন্য সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন। মামলার তালিকাভুক্ত ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খালাস ও সাজাপ্রাপ্তরা

খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন: মুহিব উল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান (মফিজ), মুফতি মঈনুদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল (মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা), আব্দুল মাজেদ বাট (ইউসুফ বাট), নাজিউন রহমান ওরফে নাজমুল হক নাজু এবং পলাতক মাওলানা তাজউদ্দিন।

ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন এবং তিনি হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান। হামলায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত ও কমপক্ষে ২৯ জন আহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওই ঘটনায় দিরাই থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জিকে গৌসসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের নেতা মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম ২০২১ সালের নভেম্বরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

আদালতের কার্যক্রম

আদালত সূত্রে জানা যায়, নয় আসামির মধ্যে পাঁচজন জেলে, তিনজন জামিনে এবং একজন পলাতক ছিলেন। পলাতক ছাড়া সব আসামি রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে কড়া নিরাপত্তা ছিল।

এর আগে দিনের শুরুতে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জিকে গৌস আদালতে হাজির হন।

প্রতিক্রিয়া

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আরিফুল, গৌস ও বাবর বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছিল এবং রায়ে তারা সন্তুষ্ট।

দণ্ডপ্রাপ্ত সৈয়দ নাইম আহমেদের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমেদ বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

এই রায়ের মাধ্যমে সিলেটের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক সহিংসতার মামলায় ২২ বছরের আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল।