শাম্মি হত্যায় স্বামী সুজনের ফাঁসি দাবি শিক্ষার্থীদের
শাম্মি হত্যায় স্বামী সুজনের ফাঁসি দাবি শিক্ষার্থীদের

যশোরের শেখ শফিয়ার রহমান মডেল একাডেমির শিক্ষার্থীরা গৃহবধূ ছামিনা আক্তার শাম্মি হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী সোহানুর রহমান সুজনের দ্রুতবিচার আইনে ফাঁসি দাবি করেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহরের মুজিব সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা ‘শাম্মির খুনির ফাঁসি চাই’ স্লোগান দেয় এবং সুজনের বিচার দ্রুতবিচার আইনে সম্পন্নের দাবি জানায়।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দাবি

শিক্ষার্থীরা জানায়, ছামিনা আক্তার শাম্মি শেখ শফিয়ার রহমান মডেল একাডেমির সাবেক মেধাবী ছাত্রী। তিনি ২০২৩ সালে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতকার্য হন। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হিসেবে তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে রাজপথে নেমেছে। অবিলম্বে তাকে দ্রুতবিচার আইনে এনে সাজা দেওয়া না হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী মিমিয়া ইসলাম তৃপ্তি বলে, “শাম্মি আপু আমাদের সিনিয়র ছিলেন, মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। সুজন তাকে ছলাকলা করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে মাত্র চার মাসের মাথায় নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একই ক্লাশের ছাত্রী লায়লা ইসলাম শান্তাও একই দাবি করে বলে, “শাম্মি আপুকে পাইপ দিয়ে বেদম মারপিট ও পরে ছুরিকাঘাত করে সুজন। যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি মারা যান, ততক্ষণ তাকে মারধর করা হয়েছে। তার ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

এই প্রতিষ্ঠানের অপর শিক্ষার্থী সিজান মাহমুদ জানায়, “শাম্মি আপুকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সুজনের ফাঁসি না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। সেই কারণে আমরা চাই না এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক।”

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন ভোরে যশোরের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় নেশার টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুজনের ছুরির আঘাতে ছামিনার মৃত্যু হয়। পরে তিনি নিজের শরীর ক্ষত-বিক্ষত করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাস চারেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন যশোর সদরের তরফ নওয়াপাড়া এলাকার শফিয়ার রহমানের মেয়ে ছামিনা আক্তার শাম্মি (২০) ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা শান্তিনগর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সোহানুর রহমান সুজন। সুজন একজন মাদকাসক্ত ছিলেন।

সুজন ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১১ জুন যশোরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পালের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।