রাজধানীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, বিতার্কিক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী মো. আবু জোবায়ের। সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শিক্ষাজীবন ও কর্মকাণ্ড
আবু জোবায়ের রাজধানীর মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার এবং দক্ষ বিতার্কিক হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জুলাই গণআন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জোবায়েরের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভুল্লিরহাট এলাকায়। তিনি ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত সালাউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই। এক যুগ আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় বড় ছেলেকে হারানোর বেদনা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার বাবা-মা। এরই মধ্যে মেঝ সন্তান জুবায়েরের মৃত্যু পরিবারটিকে আবারও গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পরিবারের সদস্যরা জানান, জোবায়ের ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন। সোমবার রাতে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কাছে একটি দ্রুতগতির ট্রাক পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অন্য দুই আরোহী সামান্য আহত হলেও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেষ শ্রদ্ধা ও দাফন
দুর্ঘটনার পর তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের ভিড় দেখা যায়। বিকেল ৫টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের কথা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জোবায়ের ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও সমাজসচেতন একজন তরুণ। তিনি বীরগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। মেধাবী ও বিনয়ী শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে তিনি ছিলেন সমাদৃত।
শোক প্রতিক্রিয়া
তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বন্ধু, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।



