শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় ২০ জন বন্দি ও ৮ জন প্রহরী নিহত হওয়ার পর দেশটির জাস্টিস মিনিস্টার হর্ষনা নানায়াক্কারা একটি পরিত্যক্ত হাসপাতাল ভবনে নতুন কারাগার খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার জাস্টিস মিনিস্ট্রি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
নতুন কারাগারের পরিকল্পনা
জাস্টিস মিনিস্টার নানায়াক্কারা দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত পরিত্যক্ত হাসপাতালের একটি অংশ অধিগ্রহণের নির্দেশ দেন, যেখানে অন্যান্য কারাগার থেকে বন্দি আনা হবে। মিনিস্ট্রির এক কর্মকর্তা জানান, “গালে জেলার মাহামোদারায় নতুন কারাগার চালু করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্থাপন করতে হবে।” তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
নেগোম্বো কারাগারের দাঙ্গা
রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো কারাগারে রোববার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা দেশের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী কারাগার দাঙ্গায় পরিণত হয়। এই সংঘর্ষে ২৮ জন নিহত এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়, যাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত প্রহরীদের প্রতি শ্রদ্ধা
নিহত প্রহরীদের মরদেহ, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় বুধবার কলম্বোর কারাগার বিভাগের সদর দফতরে আনা হয়, যেখানে তাদের সহকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জাতিসংঘের বিবৃতি
প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর কলম্বোতে জারি করা এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ বলেছে, “শ্রীলঙ্কার কারাগার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ভিড়, পুরনো পদ্ধতি এবং খারাপ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকৃত।”
অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যা
শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যায় ভুগছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কারাগারগুলো তাদের নির্ধারিত ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ বন্দি ধারণ করছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ বন্দি নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়, যা কোভিড-১৯ মহামারির সময় ঘটে। ওই ঘটনার পর সরকার অতিরিক্ত ভিড় কমানোর জন্য শত শত বন্দিকে মুক্তি দেয়।



