সোনাহাট সেতু: মেয়াদোত্তীর্ণ কাঠামোয় প্রাণহানির ঝুঁকি, নতুন সেতুর কাজ আট বছর ধরে অসমাপ্ত
সোনাহাট সেতু: মেয়াদোত্তীর্ণ কাঠামোয় ঝুঁকি, নতুন সেতুর কাজ অসমাপ্ত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদের ওপর অবস্থিত ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুটি এখন শুধু চাকাওয়ালা যানবাহনই বহন করছে না, বরং স্থানীয় মানুষের ভাগ্য ও দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের অর্থনীতিও বহন করছে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে রেলসেতু হিসেবে নির্মিত এই কাঠামোটি পরবর্তী সময়ে সড়ক সেতুতে রূপান্তর করা হয়। নির্মাণকালে এর আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর, যা চার দশক আগেই শেষ হয়েছে। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই পুরোনো সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভারী যানবাহন পারাপার হচ্ছে।

অবকাঠামোর ভঙ্গুরতা ও দৈনন্দিন ঝুঁকি

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুসারে, মেয়াদ পার হওয়া এই সেতুর পাটাতন ও লোহার প্লেট দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত। পাথর বা বালুবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে একদিকের যান পার হলে অন্যদিকের যাতায়াত বন্ধ রাখতে হয়। এই নড়বড়ে কাঠামোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন সোনাহাট স্থলবন্দরের শত শত আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে সেতু ধসে বড় ধরনের প্রাণহানি ও জাতীয় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাময়িক মেরামতি বনাম স্থায়ী সমাধান

সড়ক বিভাগ প্রতিটি ভাঙনের পর সাময়িক তালি-জোড়াতালি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এ অবস্থায় পাশেই দুধকুমার নদের ওপর ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ এভাবে আট বছর ধরে ঝুলে থাকার কোনো যৌক্তিক জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। এই আমলাতান্ত্রিক ও ঠিকাদারি অদূরদর্শিতার খেসারত দিতে হচ্ছে স্থানীয় তিনটি ইউনিয়নের মানুষ ও স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের। সেতুটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়লে সোনাহাট স্থলবন্দরের বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়বে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিকারের পথ ও জবাবদিহি

উপজেলা প্রশাসন ও কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত এবং অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে শুধু ভাঙা পাটাতন জোড়াতালি দিয়ে সাময়িক যান চলাচল শুরু করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত কেন নতুন সেতুর কাজ আট বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা হলো তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অনতিবিলম্বে নতুন সোনাহাট সেতুর বাকি কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করে তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা। একটি ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে এভাবে ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।