লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ছোট ভাইয়ের প্রেমিকার দায়ের করা ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলায় আবুল কালাম মাস্টার নামের এক স্কুলশিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সোমবার (২২ জুন) লক্ষ্মীপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামির পরিচয় ও মামলার পটভূমি
আবুল কালাম নোয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর ওয়াপদা হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী মিয়ার বড় ছেলে। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল কালামের ছোট ভাই ওমান প্রবাসী কামাল হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার এক তরুণী ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর ৮ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল কামাল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। পরে ২৩ এপ্রিল ওই কলেজ শিক্ষার্থীকে কৌশলে লক্ষ্মীপুরের একটি কাজী অফিসে নিয়ে গোপনে বিয়ে করেন। এরপর কমলনগর উপজেলা পরিষদের নিকটবর্তী একটি ভাড়া বাসায় রেখে তার সঙ্গে সংসার ও শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।
প্রতারণা ও অনশন
কিছুদিন পর স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন প্রেমিক কামাল হোসেন। কোনো উপায় না দেখে গত ৩ মে সকাল থেকে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কামালের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশনে বসেন ওই তরুণী। অনশন চলাকালীন কামালের বড় ভাই আবুল কালাম এবং বাবা চৌধুরী মিয়া তাকে গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে আবুল কালাম ও তার বাবা দুদিনের সময় চেয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অনশন ভাঙেন ওই তরুণী।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও মামলা
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে কামাল হোসেনকে কৌশলে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেন আবুল কালাম। একই সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও হাতিয়ে নিয়ে পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে তরুণীকে মানসিকভাবে হয়রানি করেন। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতে তরুণী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রেমিক কামাল হোসেনের পাশাপাশি তার বড় ভাই আবুল কালাম ও বাবা চৌধুরী মিয়াকেও আসামি করা হয়।
আইনজীবীর বক্তব্য
বাদীর আইনজীবী লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ বলেন, “বিয়ের নামে ভুক্তভোগীর সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতি করা হয়েছে। আসামিরা শুধু ওই ছাত্রীর জীবন নষ্ট করেনি, বরং বিয়ের কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়ে তাকে সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। মূল আসামিকে পালিয়ে যেতে এবং প্রমাণ লোপাট করতে বড় ভাই আবুল কালাম সরাসরি সহযোগিতা করেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামির জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেছি। আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামি আবুল কালামের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ওসি ফরিদুল আলম জানান, আদালতের নির্দেশনায় অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি আবুল কালাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



