গির্জায় কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যাজক প্রদীপ গ্রেগরী খালাস, বাদীপক্ষের আপিলের সিদ্ধান্ত
গির্জায় কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যাজক খালাস, বাদীপক্ষ আপিল করবে

রাজশাহীর তানোরের মাহালীপাড়ার সাধুজন মেরী ভিয়ান্নী গির্জায় এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ধর্মযাজক প্রদীপ গ্রেগরী বেকসুর খালাস পেয়েছেন। রোববার বিকালে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শরনিম আকতার আসামির উপস্থিতিতে বহুল আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে তানোর থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওই কিশোরী বাড়ির পাশে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন তার বড় ভাই তানোর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরদিন তিনি জানতে পারেন, তার বোনকে গির্জায় আটকে রাখা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিন যাজক প্রদীপকে অপসারণ করা হয়; কিন্তু ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়নি। তাকে গির্জার ভেতরে সিস্টারদের কাছে রেখে বলা হয়, থানা থেকে নিখোঁজের জিডি প্রত্যাহার করার পর তাকে পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার ও মামলা দায়ের

বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তানোর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেন। এরপর কিশোরীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তার বড় ভাই বাদী হয়ে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলায় গির্জার তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে একমাত্র আসামি করা হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়া

রায়ে হতাশা প্রকাশ করে মামলার বাদী বলেন, "অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি যেভাবে উপস্থাপন করার কথা ছিল, সেভাবে করতে পারিনি। কারণ যখনই আমরা কোথাও যেতাম, তখনই বেশ কয়েকবার জিনিসগুলো হারিয়ে যেত। এটি একটি অত্যন্ত সন্দেহজনক ব্যাপার। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামসাদ বেগম মিতালী বলেন, "এটি একটি প্রাথমিক রায় এবং আমরা এখনো রায়ের কোনো কপি বা ফাইন্ডিংস পাইনি। রায়ের সার্টিফাইড কপি তোলার পর আমরা বুঝতে পারব ঠিক কোন আলোকে আদালত আসামিকে খালাস প্রদান করেছেন।"

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুন্না সাহা বলেন, "শুরু থেকেই এ মামলাটা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা ছিল। এজন্য আমি বিনাপারিশ্রমিকে মামলাটি লড়েছিলাম। রায়ে আমরা হতাশ হয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় হয়নি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।"

তবে আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালাস পাওয়া আসামি প্রদীপ গ্রেগরী। তিনি বলেন, "আমি আজ আনন্দিত। দীর্ঘ ছয়টি বছর অনেক কষ্ট করেছি।"

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কাসেম বলেন, "আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি যে মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ধর্মগুরুকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই মামলাটি সাজানো হয়েছিল। তাই আমরা আগে থেকেই দৃঢ়ভাবে আশাবাদী ছিলাম যে, আইনি লড়াইয়ে আমরা খালাস পাব।"