কেরানীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, কাভার্ড ভ্যান চুরি ঘিরে উত্তেজনা
কেরানীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, কাভার্ড ভ্যান চুরি ঘিরে উত্তেজনা

ঘটনার সূত্রপাত: কাভার্ড ভ্যান চুরি ও চালককে মারধর

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর এলাকায় স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের ঘাটারচর মিলিনিয়াম সিটির সামনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুলিশের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ: চুরি থেকে উত্তেজনা

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার সকালে ঘাটারচর এলাকা থেকে স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের একটি কাভার্ড ভ্যান কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। কাভার্ড ভ্যানটি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবার সকালে কাভার্ড ভ্যানের চালক শাহ আলম মৃধাকে (৩৫) ডেকে এনে মারধর করেন প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে কয়েক শ গাড়িচালক মারধরের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় স্টেডফাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

পুলিশের ওপর হামলা: ওসিসহ আহত

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ সদস্য ও কুরিয়ারের কর্মচারীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হামলার শিকার হন ওসি রুহুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন সদস্য। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চালক ও গাড়িচালকদের বক্তব্য

বিক্ষোভকারী কাভার্ড ভ্যানের চালক সোহেল রানা বলেন, ‘কাজ শেষে আমার সহকর্মী শাহ আলম তাঁর গাড়িটি ঘাটারচর সড়কের সামনে রেখে চা খেতে যান। কিছুক্ষণ পর এসে দেখেন, গাড়িটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে গাড়ি না পেয়ে মালিকপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ শাহ আলমকে ডেকে এনে চুরির অপবাদ দিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। তাই আমরা প্রতিবাদ করেছি। শাহ আলমকে নির্যাতনের ঘটনায় যারা যারা জড়িত, প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনতে হবে। নয়তো আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

আরেক গাড়িচালক নোমান মিয়া বলেন, ‘আমাদের একটা করে চাবি দেওয়া হয়। অপরটি মালিকপক্ষের কাছে থাকে। আমাদের ধারণা, এ ঘটনায় মালিকপক্ষের লোকজন জড়িত থাকতে পারে। অথচ আমাদের সহকর্মীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে করুণভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

নির্যাতনের শিকার চালকের স্ত্রীর বক্তব্য

আহত শাহ আলমের স্ত্রী ময়না আক্তার বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে স্টেডফাস্টের লোকজন আমার স্বামীর পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ প্লায়ার্স দিয়ে তুলে ফেলেছে। স্বামীর বুকে ও গলায় পাড়া দিয়েছে। এরপরও ক্ষান্ত হয়নি। আইপিএস ব্যাটারির অ্যাসিড পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে। আমরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।’ তিনি তাঁর স্বামীকে নির্যাতনকারী প্রত্যেকের বিচার চান।

স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের বক্তব্য

জানতে চাইলে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের উপমহাব্যবস্থাপক (এডমিন) কাজল সুপিয়র বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে কিছু লোক তাঁদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তাঁদের ধারণা, গাড়িচালক শাহ আলম তাঁদের সঙ্গে জড়িত। এ নিয়ে শাহ আলমকে জিজ্ঞাসা করলে উল্টো গাড়িচালকেরা একজোট হয়ে সন্ধ্যার পর তাঁদের ওপর হামলা করতে আসে। এ সময় তাঁদের অর্ধশত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাঁকে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ওসির বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ

যোগাযোগ করলে ওসি রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, কাভার্ড ভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালিকপক্ষ ও গাড়িচালকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে কুরিয়ারের লোকজন পুলিশের ওপর অতর্কিতে সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। এতে তিনিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ আসেনি। তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।