লোডশেডিং ও বিলের ক্ষোভে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে মারধর, আটক
লোডশেডিং ও বিলের ক্ষোভে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে মারধর

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভের জেরে পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর ও কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার উপজেলার চির্কা গ্রামে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় ওই কর্মীকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের অধীন চির্কা উপকেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মো. ইব্রাহিম ও মো. আবদুল কাদের। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল যুবক উপকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রথমে ইব্রাহিমকে মারধর করেন। পরে তাঁরা আবদুল কাদেরকে জোর করে উত্তর ধানুয়া গ্রামে নিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওঅ্যান্ডএম) মোহাম্মদ নাজির উল্লাহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক করেন। পরে সেখান থেকে আবদুল কাদেরকে উদ্ধার করা হয়।

ছিনতাই ও ভাঙচুরের অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা আবদুল কাদেরকে মারধরের পাশাপাশি তাঁর কাছে থাকা ২৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন ভেঙে ফেলে। ওই রাতেই পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আলম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

এলাকাটিতে পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং চলছে জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ‘কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ বিল আসছে অতিরিক্ত। বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন দিলে তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করে। ঘটনার দিন স্থানীয় জনতা উপকেন্দ্রে গেলে লাইনম্যান আবদুল কাদের সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা তাঁকে ধরে নিয়ে আসেন। পরে এজিএম সাহেবের ফোনের পর আমরা স্থানীয় কয়েকজন মিলে বসে বিষয়টি সমাধান করি।’

স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, আবদুল আওয়াল, মিন্টু মিয়াসহ আরও কয়েকজন বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে, কিন্তু আগের তুলনায় কয়েক গুণ বিল আসছে। পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কাছে সমাধানের জন্য গেলে তাঁরা খারাপ আচরণ করেন। তাঁরা আমাদের সেবা দিতে আসেননি, এসেছেন মানুষকে হয়রানি করতে।’

ইউপি চেয়ারম্যানের মন্তব্য

পল্লী বিদ্যুৎ সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিমাণ লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিল করছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ। তিনি বলেন, ‘সমাধানের জন্য গেলে তারা কোনো কর্ণপাত করে না। আমি জানতে পেরেছি, ওই লাইনম্যান আবদুল কাদেরও স্থানীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে খারাপ আচরণ করেছেন।’

পল্লী বিদ্যুৎ ও পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই।’

ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে মারধর ও আটকে রাখার একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’