ফরিদপুরের ভাঙ্গায় টর্স লাইট জালিয়ে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১
ভাঙ্গায় টর্স লাইট জালিয়ে পাঁচ গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১

ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে টর্স লাইট জালিয়ে পাঁচ গ্রামবাসীর মধ্যে সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী তুমুল সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক যুবক নিহত ও পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও ঘটনাক্রম

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪-৫ মাস আগে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাগনা এবাদুলকে ধরে নিয়ে মারধর করে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দারসহ কয়েকজন যুবক। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দারসহ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের এবাদলসহ অন্যদের মধ্যে পুনরায় কথাকাটাকাটি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের ওপর টর্স লাইট জ্বালিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ। সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে যোগ দেয় পাঁচ গ্রামের মানুষ।

পুলিশের ব্যর্থতা ও হতাহত

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হন। এদিকে গুলিবিদ্ধ সুমন শেখ (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যুর খবরে রাত সাড়ে নয়টার সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এ সময় সড়কের উপর আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে এলাকাবাসী। এতে তিন ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। নিহত সুমনের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামে, তিনি মিলন শেখের পুত্র।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, "দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের ওপর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করেছি। এ ঘটনায় কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের এক যুবক নিহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।"

সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

রাত দশটার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।