১৬ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে দেওয়া নুর মিয়া কাজী (৬০) ৪৪ বছর পর পাকিস্তানের করাচি থেকে নিজ গ্রাম লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের কাজী বাড়িতে ফিরে এসেছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) গ্রামে পা রাখার পর তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তিনি তিন মাসের জন্য রায়পুরে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন।
কীভাবে এলেন নুর মিয়া?
শনিবার (৪ জুলাই) নুর মিয়া জানান, কোনো কাজ করতে না পেরে বাবার গালি খেয়ে ১৪ বছর বয়সে গ্রাম থেকে ভারতে যান। দিন-তারিখ তার মনে নেই। লেখাপড়াও তেমন জানেন না। প্রথমে ভারতের কলকাতায় এক মাস ছিলেন। পরে পাকিস্তানের লাহোরে গিয়ে তিনদিন ছিলেন। এরপর ইরানের রাজধানী তেহরানে তিন বছর ছিলেন। সেখান থেকে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে তিন মাস ছিলেন। আবার ইরানের তেহরানে তিন বছর ছিলেন। পাসপোর্ট না থাকায় ইরানের মিনআপ জেলে ৮ মাস কারাভোগ করেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ট্রেনে করে পাকিস্তানে চলে আসেন এবং করাচিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
পরিবার ও বর্তমান জীবন
করাচিতে তিনি দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী জমিলা খাতুনের ঘরে দুই ছেলে (মো. ইয়াসিন ও মো. রহিম) ও এক মেয়ে (ইকরা) রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী মোস্তফা খাতুনের ঘরে তিন ছেলে (মো. নুরনবি, মো. আবু বক্কর, মো. আবদুল শুক্কুর) ও এক মেয়ে (কুলসুমা বেগম) রয়েছে। তিনি নদীতে জেলের কাজ করেন। বর্তমানে দুই স্ত্রী ও সাত সন্তান নিয়ে ভালো আছেন।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুনর্মিলন
প্রথম দিকে নিয়মিত চিঠির মাধ্যমে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং অর্থও পাঠাতেন। তবে পরবর্তী কয়েক বছর নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৪৪ বছর পর তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।
প্রতিক্রিয়া
নুর মিয়া কাজী বলেন, "দীর্ঘদিন পর নিজের মাটিতে ফিরে আসতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আজ সবাইকে কাছে পেয়ে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।"
ছোট ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, "ভাইকে পেয়ে আমরা মহাখুশি। তবে মা-বাবা বেঁচে থাকলে আরও খুশি হতেন। ভাই আবার পাকিস্তানের করাচিতে চলে যাবেন।"
রায়পুর সুলতান কাজি জামে মসজিদের ইমাম আবদুল কাদির বলেন, "৪৪ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া নুর মিয়া আবার গ্রামে ফিরে আসায় পরিবার, পরিজন ও গ্রামবাসী খুশি। গত দুইদিন ধরে সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলছেন ও মসজিদেও নামাজ পড়ছেন। বাংলাভাষার পাশাপাশি ফারসি ভাষায়ও কথা বলছেন তিনি।"
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভুইয়া বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।"



