জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম সুইট জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিস্তম্ভ ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কর্মকাণ্ড, বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্টের জন্য ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। রোববার (৫ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর তিনি এ আবেদনপত্র জমা দেন।
অভিযুক্তদের তালিকা ও অভিযোগ
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, শান্তা ফারজানা নামে এক ব্যক্তি জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ ও আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননাকর বলে দাবি করা হয়। এছাড়া মেহের আফরোজ শাওন বিভিন্ন ভিডিও বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই বিপ্লবকে ‘পরিকল্পিত’ বা ‘সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপন করে রাষ্ট্র ও বিপ্লব সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহীর বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে কটাক্ষ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘অভিনয়’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হেয় করেছে বলে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আবেদনে আরও বলা হয়, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম এবং মোমিন মেহেদীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং বক্তব্য জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করার শামিল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বিপ্লবের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বয়ান তৈরি করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এসএম সুইটের বক্তব্য
এ বিষয়ে এসএম সুইট বলেন, “সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে। রক্তক্ষয়ী একটি বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে আবারও যারা নতুন করে আওয়ামী লীগের দালালি করছে, তাদের এই বৈধতা লাভ এবং তাদের পক্ষে যারা বয়ান তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই দাবিই আমি জানিয়েছি।”
থানার ওসির প্রতিক্রিয়া
ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, “চিঠিটা দেখব। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।



