নতুন অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হওয়ার পর একে ‘অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ ও অবাস্তবায়নযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা নাজিবুর রহমান মোমেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, প্রস্তাবিত এই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে দেশের বর্তমান ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত।
গঠনমূলক ভূমিকা ও ন্যায্য দাবি
নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, সংসদ অধিবেশনে জনগণের স্বার্থে তিনি সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন এবং গণবিরোধী বিভিন্ন প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। সরকারের কাছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের মতো কিছু ন্যায্য দাবি উত্থাপন করেছিলেন, যা সরকার মেনে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশের ক্ষমতা ও সিআরপিসি ২৫৩ ধারা নিয়ে উদ্বেগ
তবে পুলিশ বাহিনীকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান ও সিআরপিসি ২৫৩ ধারার প্রয়োগ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি সংস্কার কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। জুলাইয়ের ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বাজেটের ঋণ পরিকল্পনা ও ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ
উল্লেখ্য, এবারের বাজেটে ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশি-বিদেশি উৎস থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকাই আসবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। যদিও বিগত অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, নতুন বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে সরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা কমলেও, নাজিবুর রহমান মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অস্থিরতা ও দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের মূল প্রতিবন্ধক হয়ে থাকবে।



