ময়মনসিংহ নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ভাড়া বাসায় রাজিব আহমেদ রুবেলকে (৩৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের আড্ডা ও বাসা ছাড়তে বলায় বাসার মালিক ওই নারীকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির ক্ষোভে চার ভাই মিলে রুবেলকে হত্যা করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে রুবেল ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ির মালিকের আপত্তি ছিল। অভিযোগ আছে, তিনি সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এসব কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে জোর করে সেখানে থাকতে চাইছিলেন রুবেল।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
মিজানুর রহমান জানান, গতকাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটে। সকালে মদপান করে রুবেল প্রথমে বাড়ির মালিক ওই নারী ও তার ছেলেদের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পরে বাড়ির মালিকের চার ছেলে পরিকল্পনা করে একটি চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
তদন্ত ও গ্রেফতার
ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে ওই নারীর চার ছেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিন জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। চার ভাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিবিআই আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে চার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চেয়েছেন। আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
নিহতের পরিচয় ও মামলা
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড সংলগ্ন ৩৬ বাড়ি কলোনি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত রাজিব আহমেদ রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে। ওই কলোনি এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগ তোলা নারীর ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে দুপুরে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘কাইল্যা রুবেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। বিকালে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নারীর চার ছেলেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এ ঘটনায় রুবেলের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চার জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার এক নম্বর আসামি বাড়ির মালিক নারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হলে গ্রেফতার দেখানো হবে। এ ছাড়া আগে আটক হওয়া আরও দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে তাদের সম্পৃক্ততা তদন্ত করা হবে।



