নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু) তাঁর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকায় তাঁর মেয়ের নাম দুবার (মোট ২০ হাজার টাকা) সহ পরিবারের ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নাম বেশি থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সচিবালয় অনুমোদিত ২১ জনের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকার এই তালিকাটি শুক্রবার ভাইরাল হয়। সংসদ সদস্য তালিকাটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি দাবি করেন, তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের তৈরি করা তালিকার ব্যাপারে তিনি অবগত ছিলেন না।
তালিকায় কী রয়েছে?
ভাইরাল হওয়া তালিকায় দেখা যায়, আতাউর রহমানের মেয়ে সাদিকা রহমানের নাম দুবার রয়েছে—একবার ১০ হাজার টাকা এবং আরেকবার ১০ হাজার টাকা, মোট ২০ হাজার টাকা। এছাড়া তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি, দেবর, শ্যালকসহ পরিবারের ও শ্বশুরবাড়ির আরও কয়েকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোট ২১ জন প্রাপকের মধ্যে ৮ জনই তাঁর পরিবার বা আত্মীয়স্বজন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমপির ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে আতাউর রহমান বলেন, ‘তালিকাটি আমার ব্যক্তিগত সচিব তৈরি করেছেন। আমি এ বিষয়ে আগে থেকে জানতাম না। তালিকাটি সঠিক কি না, তা আমি নিশ্চিত নই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঐচ্ছিক তহবিল থেকে সাধারণত স্থানীয় উন্নয়ন ও দরিদ্র মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু এখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
তালিকাটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য দেখা গেছে। অনেকে এমপির ব্যাখ্যাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অপেশাদার’ বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এমপি সাহেব নিজের মেয়েকে দুবার টাকা দিয়েছেন, আর বলছেন জানতেন না! এটা কি গ্রহণযোগ্য?’ আরেকজন বলেন, ‘ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা জনগণের, পরিবারের জন্য নয়।’
আইন কী বলে?
সংসদ সদস্যদের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের টাকা শুধুমাত্র জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং কোনো সংসদ সদস্য নিজ পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে এই টাকা দিতে পারবেন না। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে এমপি নিজের পরিবারকে টাকা দিয়েছেন, তাহলে এটি আইন লঙ্ঘন।



