আনোয়ায় মা-মেয়ে হত্যা: ১০ দিনে পুলিশের অভিযোগপত্র
আনোয়ায় মা-মেয়ে হত্যা: ১০ দিনে অভিযোগপত্র

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়েকে হত্যার ১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে এ অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

হত্যার কারণ: পাওনা টাকার স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতে

পুলিশ জানায়, পাওনা টাকার লিখিত স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতেই মা ও মেয়েকে হত্যা করেন প্রতিবেশী তেজ বড়ুয়া। ১৩ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বসতঘরে এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে (১৬) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এনি বড়ুয়া ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় পিয়াস বড়ুয়া নামের পাঁচ বছরের এক শিশু গুরুতর আহত হয়।

খবর পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনার মূল আসামি তেজ বড়ুয়াকে (৪০) শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে পটিয়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং ঘটনাস্থলের পাশে চানখালি খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও সাক্ষ্য

এ ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, “সুজন বড়ুয়া প্রতিবেশী তেজ বড়ুয়ার কাছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পেতেন। এ টাকার লিখিত স্ট্যাম্প সুজন বড়ুয়ার ঘরে ছিল। টাকার বিপরীতে নিয়মিত সুদ দিতেন তেজ বড়ুয়া। এ কারণে এসব স্ট্যাম্প চুরির পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে চুরি করতে গেলে এনি তাঁকে দেখে ফেলেন। এ কারণে তেজ প্রথমে এনিকে ও পরে তাঁর মেয়ে প্রিয়ন্তীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগপত্রে পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার মূল আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, হাসপাতালের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতসহ সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “এটি একটি আলোচিত ও নৃশংস ঘটনা ছিল। আমরা গুরুত্ব ও পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্তের কাজ করেছি। আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।”