লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়ে হত্যা: ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি, ময়নাতদন্তের অপেক্ষা
লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়ে হত্যা: ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনও মামলা হয়নি। শুক্রবার (২৬ জুন) পুলিশ জানিয়েছে, নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও অভিযোগ না পাওয়ায় একটু সময় লাগছে। তবে লাশগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মামলা করার কথা রয়েছে।

ময়নাতদন্ত ও মামলা প্রক্রিয়া

পিটুনিতে নিহত অভিযুক্তের লাশও সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. অরুপ পাল বলেন, এখনও পুলিশের সুরতহাল রিপোর্ট না পাওয়ায় ময়নাতদন্ত করা যাচ্ছে না। তবে শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরের মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিহতদের দাফন প্রক্রিয়া

লাশ হস্তান্তর হলে মা ও তিন মেয়েকে রায়পুর শহরের ধানহাটায় জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনার বাড়িতে নিয়ে ফের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিস্থিতি এখনও থমথমে অবস্থায় বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর-সার্কেল) আবদুর রাশেদ বলেন, এখন পর্যন্ত এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করা যাবে বলে আশা করেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের ৫ম তলার বাসার নীচতলায় কক্ষে ঢুকে ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার গৃহবধূ শাহীনুর বেগম ও তার মেয়ে সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তারকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতে ঘটনাস্থলে শাহীনুর বেগম (৩৮) ও বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২০) মারা যান। পরে আহত শিফা আক্তার (৯) ও ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যান।

এ ছাড়া অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। তিনি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। রায়পুর শহরের ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন।