আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রসিকিউশন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
প্রসিকিউটরের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায় ঘোষণার পরপরই আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'সাজা অপর্যাপ্ত। আমরা অবশ্যই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করব।' তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশন রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর দ্রুত আপিল দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
ট্রাইব্যুনালের রায়
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এই মামলায় মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জেএসডি সভাপতি এবং তৎকালীন ১৪-দলীয় জোটের সিনিয়র নেতা হিসেবে ইনু সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্দেশনা জারি করেন যা আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখে। তাকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়, যার ফলে ছয়জন নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর গুলি চালায়। নিহতরা হলেন: শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরোজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মুক্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবুল ফরাজী ও সরকারি কর্মচারী ইউসুফ শেখ। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হন।
মামলার পটভূমি
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা পরে আটটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় দেন।



