জামালপুরে অনিয়মিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা: অধ্যক্ষকে শোকজ, কমিটি বাতিল
জামালপুরে অনিয়মিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা: অধ্যক্ষ শোকজ, কমিটি বাতিল

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজকেন্দ্রে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে শতাধিক নিয়মিত শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার ওই কলেজকেন্দ্রে এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ৯০০-এর বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে ভুলবশত গত বছরের সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা প্রশ্নপত্র বিতরণ করায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষা শেষে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে গতকাল ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামসহ একটি দল কলেজে গিয়ে তদন্ত করে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং কলেজের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বোর্ডের পদক্ষেপ

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ সিরাজুল বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা কলেজে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করি। তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি লক্ষ করা গেছে। এ কারণে কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে এবং অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবে না; বোর্ড সব সময় পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। মূলত কলেজ কর্তৃপক্ষ রিজার্ভ প্রশ্ন থেকে ভুলবশত এই প্রশ্নপত্রগুলো বিতরণ করেছিল। তাই এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কলেজ কর্তৃপক্ষের। পরীক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা

এর আগে গতকাল শনিবার সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন ২০২৬ সালের ১০০ জন পরীক্ষার্থী। ভুক্তভোগী এসব পরীক্ষার্থী সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।