হাইকোর্ট তিন মাস ধরে নিখোঁজ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা
আদেশ পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে আদালতে হাজির করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মিরাজকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, এ বিষয়ে আদালত যাতে সন্তুষ্ট হতে পারেন, সে জন্য তাঁকে হাজির করতে এবং তাঁর অবস্থান প্রকাশ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।’
বিবাদীদের তালিকা
স্বরাষ্ট্রসচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ৯ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম।
রিটের বিবরণ
মিরাজকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি তা নিশ্চিত করতে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে তাঁর বাবা মো. মোস্তফা শেখ আবেদনকারী হয়ে গত ২২ জুন রিটটি করেন। এর আগে ‘এক মাসের বেশি নিখোঁজ, কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্ত্রীর’ শিরোনামে গত ১৬ মে প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে রিটটি করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
প্রথম আলোর গত ১৬ মের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খাতুন কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীকে গুম করার অভিযোগ করেছেন। স্বজনদের ভাষ্য, মিরাজ গত ১০ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মাছ ধরে বাড়িতে এসে ঘুমান। সন্ধ্যার আগে অচেনা নম্বর থেকে কয়েকবার ফোন এলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে জয়মনির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে তাঁকে সাদাপোশাকে থাকা দুজন ধরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী মুক্তা ছুটে গিয়ে দেখেন, কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে মিরাজকে মোংলার দিকে নেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের পদক্ষেপ
মিরাজের সন্ধান চেয়ে গত ৮ মে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর স্ত্রী মুক্তা। এ ছাড়া স্বামীর সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চেয়ে গত ১৪ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠান মুক্তা।



