হাইকোর্ট বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিতকরণকারী বিধানগুলো কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে।
রুল জারি
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (১৭ জুন) একটি জনস্বার্থ রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করে।
আদালত বিশেষভাবে জানতে চেয়েছে, কেন বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ৪৬(২) এবং ধারা ৪৬(১)-এর শর্ত, এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ১৯৭ সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না।
পিটিশনের দাবি
রুলে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত নারীদের জন্য সমান মাতৃত্ব সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়াকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, এবং কেন একটি অভিন্ন মাতৃত্ব নীতি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না।
আইনজীবী ইশরাত হাসান পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন। তাঁকে সহায়তা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।
পটভূমি ও যুক্তি
জনস্বার্থ রিট পিটিশনটি ১৫ জুন দায়ের করা হয়, যাতে বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের জন্য সমান মাতৃত্ব অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। পিটিশনে মোট ১২ জন বিবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিব রয়েছেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নয়; বরং এটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের জন্য মাতৃত্ব সুবিধা অস্বীকার করা বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি খাতে ভিন্ন ভিন্ন মাতৃত্ব নীতি কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং সংবিধানের সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির পরিপন্থী।
আইনজীবীর বক্তব্য
শুনানি শেষে পিটিশনের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, "এই রিট বাংলাদেশের সকল কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্ব অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। মাতৃত্ব শাস্তির বিষয় নয়; এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার যা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য।"
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশে মাতৃত্ব অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা ও শ্রম অধিকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।



