রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিপ্রকয়া সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক রুনা লায়লাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন করার পর পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের বিদ্যালয়টিতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে স্থানীয়দের ডাকা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় একটি পক্ষ অভিযোগ তোলে, প্রধান শিক্ষক তাঁর পছন্দের ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে সভাপতি করেছেন। এ নিয়ে কয়েকজন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চান। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ আছে, তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ পরিস্থিতির এক পর্যায়ে তিনি অফিসকক্ষে আশ্রয় নেন। পরে অন্য শিক্ষকেরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াহিয়া মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি বড় ছিল না, প্রধান শিক্ষক গোপনে কমিটি গঠন করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি খবর পাওয়ার পরই স্কুলে যাইয়্যা সবাইকে শান্ত করেছি। শিক্ষিকার মোবাইল ফোন আমার কাছে আছে। প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল নিবে বলেছে। উভয় পক্ষ আজকের ঘটনার জন্য দায়ী।’
অভিযোগকারীদের বক্তব্য
প্রতিবাদ করতে যাওয়া স্থানীয় চারজন বাসিন্দা বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁর পছন্দের লোককে সভাপতি করার কারণ জানতে গেলে তাঁদের লাঞ্ছিত করা হয়। তবে তাঁরা মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
প্রধান শিক্ষকের অবস্থান
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য প্রধান শিক্ষক রুনা লায়লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের ব্যবস্থা
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কমিটি গঠনের বিষয় নিয়ে কিছু লোক প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করেন। প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোন কেড়ে নেন। পুলিশ গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেছে। পরবর্তীকালে ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ইউএনওর পরামর্শে কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।



