হাইকোর্টের রুল: মাতৃত্বকালীন ছাড় সীমিতকরণ কেন অবৈধ নয়?
মাতৃত্বকালীন ছাড় সীমিতকরণ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট সোমবার একটি রুল জারি করে মাতৃত্বকালীন ছাড় ও সুবিধা সীমিতকরণের বিধান কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত নারীদের জন্য সমান মাতৃত্বকালীন ছাড় ও সুবিধা নিশ্চিতে অভিন্ন নীতি প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

আদালতের রুল ও মামলার প্রেক্ষাপট

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বাংলাদেশে কর্মরত নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে বলেছেন।

আইনজীবীরা জানান, মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে মাতৃত্বকালীন ছাড় ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নয়, বরং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সাম্য এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত মৌলিক অধিকার। তৃতীয় বা তার পরবর্তী সন্তানের জন্য নারীদের এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের পরিপন্থী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈষম্য ও অসামঞ্জস্যতা

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতে পৃথক মাতৃত্বকালীন ছাড় নীতি থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এটি সংবিধানের সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বলেন, 'বর্তমান নীতিমালায় একজন নারী সরকারি চাকরিতে চার মাস এবং বেসরকারি খাতে আট সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছাড় পান। কিন্তু তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই এই সুবিধা সীমিত বা বাতিল করা হয়। এটি নারীদের জন্য চরম বৈষম্যমূলক।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ

আদালতের রুলের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রুল নারী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে অভিন্ন নীতি প্রণয়ন করা হলে দেশের কর্মজীবী নারীরা সমান সুবিধা পাবেন।

রুলের পরবর্তী শুনানি আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মামলায় কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত জবাব দেওয়া হয়নি।