আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেবেন। সোমবার (২৯ জুন) ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল এ আদেশ দেন, অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানির শেষ দিন
টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। তিনি আদালতে দাবি করেন, কোনো আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান নেই এবং তদন্তে নানা ত্রুটি রয়েছে। সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম ২৮ জুন তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন। সোমবার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।
গ্রেফতার ও পলাতক আসামি
মামলায় গ্রেফতার পাঁচ আসামি হলেন- সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। সোমবার ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হাছান মাহমুদ, নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
মামলার অভিযোগ
গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। তার দুই দিন আগে ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে। প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।



