চট্টগ্রামে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় কারাগারে যাওয়া দুই শিশুর দাদি মনোয়ারা বেগমকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হান্নানের আদালত শুনানি শেষে মনোয়ারা বেগমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
শিশুদের দেখভালের জন্য জামিন
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফোরকান মোহাম্মদ। তিনি জানান, গৃহবধূর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় জেলে থাকা শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ও ননদ মোছা. নাদিয়া আক্তারের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। ভিকটিমের দুই নাবালক সন্তান বর্তমানে আসামিদের সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করছে। শিশু দুটির দেখভালের জন্য অন্য কোনো অভিভাবক না থাকায় কারাগার থেকে তাদের দাদির সঙ্গে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে মনোয়ারা বেগমকে জামিন দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ
আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ শয়নকক্ষ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ২০ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিকটিম আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তা একজন শান্ত প্রকৃতির সৎ চরিত্রের গৃহবধূ ছিলেন। শুধুমাত্র স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে চলতি বছরের ১০ মার্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন তার বাবা মনির আহমদ। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়। সংস্থাটি তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে গত ৬ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা তথা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
পূর্বের ঘটনা
এর আগে ১ জুলাই এ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত মুক্তার স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত, শাশুড়ি মোছাম্মৎ মনোয়ারা বেগম এবং ননদ মোছা. নাদিয়া আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই সময় শিশু দুটিকেও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছিল।



