সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন তার চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আইনগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
আইনগত ভিত্তি ও বিদেশে চিকিৎসার নিয়ম
খালিদ হোসেন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ বা বিদেশে যে কোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পেয়ে থাকেন। বিদেশে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ ও সরকারপ্রধানের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি জানান, তার ক্ষেত্রে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড গঠন করা হয় এবং তারা লিখিতভাবে জানান যে ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ অপারেশন দেশে সম্ভব নয়। ফলে আবুধাবির একটি মার্কিন হাসপাতাল ও থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা ব্যয়ের বিবরণ
তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন জটিল হৃদরোগ, উচ্চ ডায়াবেটিস (দিনে তিনবার ইনসুলিন), উচ্চ রক্তচাপসহ নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। ২০১৫ সালে তার হার্টে স্টেন্ট বসানো হয় এবং এ পর্যন্ত ৫ বার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের সরকারি মেডিকেলে চিকিৎসা নেন। রিপোর্টে অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (AFib) ধরা পড়ে।
প্রথম ধাপে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়, যার সব রশিদ ও ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাসে অপারেশন সম্পন্ন হলে বিল আসে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে কিছু ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার
খালিদ হোসেন দাবি করেন, সরকার শুধুমাত্র হাসপাতাল, অপারেশন ও ওষুধের ব্যয় বহন করেছে। তার সঙ্গে যাওয়া সহযাত্রীর সব খরচ, হোটেল, খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ তিনি নিজেই বহন করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার প্রদত্ত প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, ভাউচার, রিসিপ্ট আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। যে কেউ চাইলে হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ব্যয়ের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করতে পারবেন।’
তিনি মিডিয়ার কিছু সংবাদকে ‘ভুল ফ্রেমিং’ বলে নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমি উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি।’



