বরগুনায় একদিনে পাঁচ লাশ উদ্ধার, নানা রহস্য ও সমালোচনা
বরগুনায় একদিনে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজনের ঝুলন্ত লাশ, একজন গণপিটুনিতে নিহত এবং আরও দুজনের মৃত্যু ঘিরে নানা রহস্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বরগুনা জেলায় একের পর এক অপমৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালু নামের এক যুবক নিহত হন। নিহত কালু ওই এলাকার সোনা বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ‘কালু বাহিনী’র প্রধান ও চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী ও মাদক মামলা রয়েছে। মাত্র দুই থেকে তিনদিন আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে কালু স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী একজোট হয়ে তাকে ধাওয়া করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রিকশাচালকের রক্তাক্ত লাশ
শনিবার (১৩ জুন) সকালে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সড়কের পাশ থেকে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার স্ত্রী পারভীন আক্তারের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ ও চিরকুট
বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে স্বামীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ের জেরে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেলেও নিহতের বোন নাফিজা একে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।
বৃদ্ধা ও কলেজছাত্রের মৃত্যু
অন্যদিকে শনিবার (১৩ জুন) বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নং ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকার নিজ বাসা থেকে সালেহা বেগম (৯৩) নামের এক বৃদ্ধার লাশ এবং একইদিন সকালে বামনা উপজেলায় চাচার বাসা থেকে আবীর (১৭) নামের এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয় জানতে চাইলে বরগুনা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা তিনি জানান, গত কয়েকদিনের ঘটনাগুলো পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি এবং র্যাবের সদস্যরা সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে যেসব ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে, তার পেছনে কোনো হত্যাকাণ্ডের মোটিভ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, জেলায় শান্তি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।



