রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন এবং রুট পারমিট সবগুলোরই মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান এ তথ্য জানান।
ঘটনার বিবরণ
বিআরটিএ সূত্র জানায়, বাসটি গত ৫ জুন দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় বাসের চালক ও তার সহকারী আহত হন। দুর্ঘটনার পর বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিআরটিএ’র তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাসটির ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ এবং রুট পারমিট সবকটিরই মেয়াদ অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। এই ঘটনার পর বাসটির নিবন্ধন এবং চালকের প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন
এদিকে বাসডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রধান ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘাট এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘাটতির বিষয় উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা এড়াতে ও নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা;
- পন্টুন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট মেরিন বিভাগের যেকটি ত্রুটি রয়েছে তা দ্রুত সংশোধন করা;
- বাসটির রুট পারমিট-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব সাথী দাস জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে আমরা দুর্ঘটনার বিষয়ে অনেকগুলো ত্রুটি খুঁজে পাই। সেগুলো প্রতিকারের সুপারিশও করা হয়েছে। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করছি।
পুলিশের মতামত
সড়কে ও ঘাটে এ ধরনের ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন বলেন, বিভিন্ন ধরনের তদবির ও প্রভাবের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সময় বাসের রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না।
তার মতে, নিয়মিত ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম এবং দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত যানবাহনে কাগজপত্র চেক করি। অনেক সময় সব গাড়ির কাগজ চেক করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সন্দেহ হলেও আমরা গাড়ি থামিয়ে চেক করি।



