রাজধানীর কাঁটাবনে আল বারাকা টাওয়ারের ১২ তলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের ব্যক্তিগত ল চেম্বারে অগ্নিকাণ্ডে দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটর নিজেই জানিয়েছেন, আগুনে তাঁর চেম্বারের কাগজপত্র পুড়ে গেছে এবং চেম্বারে থাকা দুই কর্মী মারা গেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অভিযোগ নাশকতার
প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময়কার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, কোনো কারণে তাঁর চেম্বারে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ১৪ তলা ভবনটির ১২ তলায় চারটি অ্যাপার্টমেন্টের তিনটিতে চেম্বার এবং একটিতে বাসা। এর মধ্যে ডি-১-এ তাঁর চেম্বার। সেখানে লাগা আগুনে তাঁর ৮০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট বা কার্ড সরানোর অভিযোগ
প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান আরও বলেন, চেম্বারের দাপ্তরিক সহকারী মো. আবদুস সালাম গতকাল রাত ১২টা ৪৭ মিনিটে ফোন করে আগুন লাগার খবর জানান। কিন্তু ১২টা ২৭ মিনিটের পর থেকে তাঁর চেম্বারের আউটডোরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড নেই। ১২টা ২৭ মিনিট থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ‘নো রেকর্ড’ দেখাচ্ছে। তিনি ধারণা করছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা পুড়ে গেছে অথবা আগুন দেওয়ার আগে কেউ সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড সরিয়ে ফেলেছে।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নয় বলে দাবি
প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান মনে করেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা কোনো দুর্ঘটনা থেকে আগুন লাগেনি। তাঁর চেম্বারে আগুন লাগার যৌক্তিক কারণ নেই বলে জানান তিনি। তাঁর চেম্বারে রান্না হয় না। কর্মচারীরা ধূমপানও করেন না। কয়েলও জ্বালানো হয় না। রাতে এসিও চলত না। আগুনের সূত্রপাত প্রধান দরজা থেকে। প্রধান দরজায় আগুন ধরার কারণে কর্মচারীরা বের হতে পারেননি। দুজনই মারা গেছেন।
নিহত দুই কর্মী
মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে একজন হলেন প্রসিকিউটরের চেম্বারের দাপ্তরিক সহকারী আবদুস সালাম। আরেকজন আরেক চেম্বারের দাপ্তরিক সহকারী। তাঁরা দুজন একসঙ্গে তাঁর চেম্বারে থাকতেন। আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আবদুস সালাম তাঁকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান। চেম্বারে আগুন ধরছে, আমি তো বের হতে পারতেছি না।’ এ কথাই বলতে পেরেছেন আবদুস সালাম। তারপর আর ফোন ধরেননি।
ফায়ার সার্ভিসের দেরির অভিযোগ
সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন বলে জানান আবদুল্লাহ আল নোমান। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে ফায়ার সার্ভিস দেরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
প্রসিকিউটরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও এখনো কিছু বলা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর মতামতও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।



