মাগুরা জেলার সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে অর্থের অভাবে এক বাবা নিজের দেড় মাসের কন্যাশিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন। স্ত্রীর অগোচরে এই কাজ সম্পন্ন করে তিনি স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করতে থাকেন। বাড়িতে থাকা ‘জিন-পরি’ শিশুটিকে নিয়ে গেছে বলে মিথ্যা গল্প শুনিয়ে তিনি স্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং এক ফকির এনে ঝাড়ফুঁকও করান।
ঘটনার বিবরণ
জানা যায়, ২৭ মে মাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নবজাতক কন্যাশিশু টুকটুকিকে মাগুরা সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার শাহাবুর ও মনিরা খাতুন দম্পতির কাছে তুলে দেন সাগর (৩৮)। ঘটনার পর পুরো বিষয়টি গোপন রেখে তিনি স্ত্রী তানজিলা খাতুনকে বিভ্রান্ত করতে থাকেন। শিশুটিকে বিছানায় না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা তানজিলা। সাগর তাকে বলেন, জিন শিশুটিকে নিয়ে গেছে। এমনকি জিন তাড়ানোর নামে এক ফকিরকে বাড়িতে এনে ঝাড়ফুঁক করান তিনি।
মায়ের চেষ্টা ও পুলিশের ভূমিকা
কিন্তু সন্তানের প্রতি মায়ের টান তানজিলাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি বাড়ির পাশের শত্রুজিতপুর পুলিশ ক্যাম্পে বিষয়টি জানান। এরপর মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মাগুরা সদর থানা পুলিশ শাহাবুর ও মনিরা খাতুন দম্পতির বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় শিশু টুকটুকিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা দম্পতি এবং সুজয় নামে মাগুরা সদর হাসপাতালের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, মায়ের কোল থেকে চুরি করা শিশুটির ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে অপর কোনো পক্ষ জড়িত আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



