জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন নিহত শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ফজলে নূর তাপসসহ সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ ও আদালতের কার্যক্রম
বুধবার বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দুই সদস্যের বেঞ্চে এই সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে জেরা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর শহীদুল ইসলাম সরদার। এ সময় প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আব্দুস সাত্তার পালোয়ান ও মঈনুল করিমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ফারহান হত্যার বিবরণ
সাক্ষ্যে শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তার ছেলে ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড সারা দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ছেলের মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা শেষে তিনি মামলায় নামীয় আসামিসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
মামলার আসামি ও বর্তমান অবস্থা
এই মামলায় মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন বর্তমানে কারাগারে আছেন: নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর ইউনিটের সভাপতি নাইমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, সাবেক ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা।
আদালতের চার্জ গঠন
গত ১০ মে ট্রাইব্যুনাল-১ এই ২৮ আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। কারাগারে থাকা চার আসামি অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিদের উসকানি ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে মাহমুদুর রহমান সাইকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ নয়জন নিহত এবং অনেকেই আহত হন।



