নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শুরু
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল, যিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীও, বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করেছে কমিশন।
“নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। সময়মতো একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে কমিশন প্রস্তুত,” বলেন তিনি।
সংসদ অধিবেশন ও সময়সূচি
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, মির্জা ফখরুলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তারা বলেন, আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে কোনো মন্তব্য করার অবস্থানে তারা নেই।
প্রবাসী ভোটারদের জন্য নতুন ব্যবস্থা
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক পৃথক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, ইসি প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের জন্য আইটি সমর্থিত ডাকযোগে ভোট নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করেছে।
তিনি বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্যও এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে এবং এর আওতায় যত বেশি সম্ভব প্রবাসী বাংলাদেশিকে আনার চেষ্টা করছে কমিশন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্যদের বেতন ও ভাতা
গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিমের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেতন ও ভাতা বর্তমানে বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
জেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা
জেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের কার্য সম্পাদনে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
রাজনৈতিক মহলে পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা জোরদার হলেও নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা করেনি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়সীমা নিয়ে কমিশনের নীরবতা বলছে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক রোডম্যাপ এখনো প্রকাশিত হয়নি।



