নরসিংদীর পলাশে চোখ বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় এক বৃদ্ধকে সড়কের পাশে ঝোপে ফেলে পালানোর সময় মাইক্রোবাসচালককে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে হাসপাতালে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার ভাগদী এলাকার পাঁচদোনা–ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাইক্রোবাস এসে সড়কের পাশে একটি ঝোপের সামনে থামে। কিছুক্ষণ থেমে থাকায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে যান। তারা দেখতে পান, মাইক্রোবাস থেকে কিছু একটা ঝোপে ফেলার চেষ্টা করছেন চালক। কাছে গিয়ে তারা দেখেন, মাইক্রোবাসের ভেতরে চোখ বাঁধা ও রক্তাক্ত এক বৃদ্ধ পড়ে রয়েছেন, তিনি জীবিত।
জনতার প্রতিক্রিয়া
এ সময় স্থানীয় লোকজন মাইক্রোবাসচালককে ধরে পিটুনি দেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ সকাল সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মাইক্রোবাসচালককে আটক করে। এর আগে রক্তাক্ত ওই ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
মৃত্যু ও শনাক্তকরণ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটার দিকে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহতের আনুমানিক বয়স ৬০ বছর। তাঁর নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আনুমানিক ৬০ বছরের এক বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। পরে তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই মারা যান তিনি।”
আটক চালক ও তদন্ত
আটক মাইক্রোবাসচালকের নাম মনির হোসেন (৪৫)। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে। পলাশ থানার উপপরিদর্শক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “নিহত বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে। মাইক্রোবাসের চালককে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দ্রুত এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।”



